এক নজরে বগুড়া
Bogura at a glance
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া — ১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগের জনবহুল জেলা; আয়তন ২,৮৯৮.৬৮ বর্গকিমি, জনসংখ্যা ৩৭ লক্ষাধিক।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় যেতে বগুড়া পেরোতে হয় বলে একে "উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার" বলা হয়। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড়, বিখ্যাত দই, লাল মরিচ আর হালকা প্রকৌশল শিল্প — সব মিলিয়ে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
মৌলিক তথ্য
- প্রতিষ্ঠা: ১৮২১ সাল (রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কিছু থানা নিয়ে)
- বিভাগ: রাজশাহী
- আয়তন: ২,৮৯৮.৬৮ বর্গকিলোমিটার
- জনসংখ্যা (জনশুমারি ২০২২): ৩৭,৩৪,২৯৭ জন — উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে জনবহুল জেলা
- জনঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,২৮৮ জন
- খানা (পরিবার): ১০,২৫,২০০টি; গড়ে পরিবারপ্রতি ৩.৫৮ জন
- শহুরে জনসংখ্যা: ৯,৬১,৩৫৪ জন (২৫.৭৪%)
- সাক্ষরতা (৭ বছর+): ৭২.৫৫%
- উপজেলা: ১২টি প্রতিষ্ঠিত + ২০২৬ সালে অনুমোদিত নতুন মোকামতলা উপজেলা
- সিটি কর্পোরেশন: ১টি (বগুড়া সিটি কর্পোরেশন, ২০২৬)
- পোস্ট কোড: ৫৮০০ (সদর) • এলাকা কোড: ০৫১
সীমানা
উত্তরে জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা, দক্ষিণে সিরাজগঞ্জ ও নাটোর, পূর্বে যমুনা নদী ও জামালপুর, পশ্চিমে নওগাঁ জেলা। জেলার একেবারে মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক (এন-৫), যা এশিয়ান হাইওয়ের অংশ।
ভূপ্রকৃতি
করতোয়া নদী জেলাকে পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ করেছে। পূর্বাংশ (সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা, ধুনট) যমুনা অববাহিকার পলিমাটির উর্বর অঞ্চল — প্রায় প্রতি বছর বন্যায় প্লাবিত হয়, আবার বছরে তিন ফসলও ফলে। পশ্চিমাংশ বরেন্দ্রভূমির লাল-ধূসর মাটির কিছুটা উঁচু এলাকা। ভূতাত্ত্বিকভাবে জেলাটি ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ বলয়ে পড়ে।
জনমিতি (২০২২)
- মুসলমান ৯৪.১৬%, হিন্দু ৫.৮০%, অন্যান্য ০.০৪%
- সাঁওতালসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ১৯৭৪ সালে ১৭.২ লক্ষ → ২০০১ সালে ৩০.১ লক্ষ → ২০২২ সালে ৩৭.৩ লক্ষ
অর্থনীতি
কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা — তিনটির ওপর বগুড়ার অর্থনীতি দাঁড়িয়ে। প্রধান ফসল ধান, আলু, মরিচ, পাট, গম, সরিষা, ভুট্টা ও শাকসবজি। জেলায় দুই হাজারের বেশি ক্ষুদ্র শিল্প এবং শতাধিক বড় কারখানা রয়েছে। দেশের কৃষি যন্ত্রপাতির চাহিদার বড় অংশ বগুড়ার ফাউন্ড্রি ও হালকা প্রকৌশল কারখানা মেটায়; সেচপাম্প, লাইনার, ধানমাড়াই যন্ত্র নেপাল-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। শেরপুর-কাহালুর নারীদের তৈরি হস্তশিল্প ইউরোপের বহু দেশে যায়।
যোগাযোগ
- সড়ক: ঢাকা থেকে বাসে ৪.৫–৬ ঘণ্টা (যমুনা সেতু হয়ে)
- রেল: সান্তাহার জংশন দিয়ে ব্রডগেজ এবং বগুড়া শহর দিয়ে মিটারগেজ লাইন
- বিমান: এরুলিয়ায় বিমানবন্দর থাকলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট নেই; নিকটতম ফ্লাইট সৈয়দপুর ও রাজশাহী
নামকরণ
দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র, বাংলার শাসক নাসিরউদ্দিন বুগরা খানের নাম থেকে "বগড়া", কালক্রমে "বগুড়া"। ২০১৮ সালে সরকার ইংরেজি বানান Bogra থেকে বদলে Bogura করে।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Bogra District, officially Bogura District, is a district in the northern part of Bangladesh, in Rajshahi Division. Bogra is an industrial city where many small and mid-sized companies are sited. Bogra was a part of the Pundravardhana territory of ancient Bengal and the ruins of its capital can be found in northern Bogra. Bogra is named after the independent sultan of Bengal Nasiruddin Bughra Khan (1287–1291).
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি



আরও ইতিহাস ও ঐতিহ্য
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন ও পুণ্ড্রনগর
আড়াই হাজার বছর আগের পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল আজকের মহাস্থানগড় — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরসভ্যতার নিদর…
মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া
১৯৭১ সালে বগুড়া ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন; মার্চেই শুরু হয় প্রতিরোধ, আর ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অভিযানে…
সুলতানি আমল ও বগুড়ার নামকরণ
সুলতান বলবনের পুত্র নাসিরউদ্দিন বুগরা খান বাংলার স্বাধীন সুলতান হন — তাঁর নামেই এই অঞ্চলের নাম বগুড়া।