মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া
Bogura in the Liberation War
১৯৭১ সালে বগুড়া ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন; মার্চেই শুরু হয় প্রতিরোধ, আর ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অভিযানে জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ থেকেই বগুড়ার ছাত্র-জনতা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বগুড়া ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল।
প্রাথমিক প্রতিরোধ
২৫ মার্চের পর শহরে ঢোকার চেষ্টা করা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ ও বাঙালি সৈনিকেরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৯ মার্চ ক্যাপ্টেন গিয়াসের নেতৃত্বে প্রতিরোধযোদ্ধারা বহু শত্রুসেনাকে পরাস্ত করেন — এটি জেলার মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গণহত্যা ও গণকবর
যুদ্ধের নয় মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।
- নন্দীগ্রামের বামন গ্রামে ২৮ এপ্রিল ১৯৭১ গণহত্যায় দেড় শতাধিক নিরীহ মানুষ নিহত হন
- শিবগঞ্জের ময়দানহাটায় ৪ এপ্রিল একই পরিবারের ১৬ জনকে হত্যা করা হয়
- সান্তাহারে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়; শহীদদের স্মরণে ২০১৫ সালে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়
- শাজাহানপুরের বাবুর পুকুরসহ বেশ কয়েকটি বধ্যভূমি চিহ্নিত হয়েছে
সম্মুখযুদ্ধ
কাহালুর কড়িবামুজা ও নশিরপাড়া, শিবগঞ্জের পাঁচপীর সরলপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ লড়াইয়ে অংশ নেন। ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে একের পর এক উপজেলা মুক্ত হয় — নন্দীগ্রাম ৮ ডিসেম্বর এবং কাহালু ১৩ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়।
বগুড়ার বীর সন্তানেরা
বগুড়ার সন্তান জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। বিমানবাহিনীর পরবর্তী প্রধান মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার (বীর উত্তম) ৬ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতারের "চরমপত্র" পাঠ করে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন বগুড়ার এম আর আখতার মুকুল।
স্মৃতিচিহ্ন
- সাতমাথার বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ — সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতিসহ
- বিজয়াঙ্গন — বগুড়া সেনানিবাসের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর
- জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ
আরও পড়ুন
সেলিনা শিউলির "বগুড়া জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" (২০০৯) জেলার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত গ্রন্থ।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
The Battle of Hilli were two major battles fought from 22 to 24 November and again from 10 to 11 December 1971. They are generally regarded as the bloodiest battles of the eastern front of the Indo-Pakistani War of 1971. The first battle saw, according to veterans of the battle, the fiercest fighting of the war, but the second was much tamer.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি



আরও ইতিহাস ও ঐতিহ্য
এক নজরে বগুড়া
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া — ১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগের জনবহুল জেলা; আয়তন ২,৮৯৮.৬৮ বর্গকিমি, জনসংখ্যা ৩৭…
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন ও পুণ্ড্রনগর
আড়াই হাজার বছর আগের পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল আজকের মহাস্থানগড় — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরসভ্যতার নিদর…
সুলতানি আমল ও বগুড়ার নামকরণ
সুলতান বলবনের পুত্র নাসিরউদ্দিন বুগরা খান বাংলার স্বাধীন সুলতান হন — তাঁর নামেই এই অঞ্চলের নাম বগুড়া।